বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কে প্রথম হ্যাটট্রিক করেছিলেন?
বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কে প্রথম হ্যাটট্রিক করেছিলেন?
২১ আগস্ট ২০০৩। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় দিন। এই দিনেই বাংলাদেশ পেয়েছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম হ্যাটট্রিকের দেখা। পাকিস্তানের পেশোয়ারে টেস্ট ম্যাচে ইতিহাস গড়েছিলেন এক তরুণ লেগস্পিনার যার নাম ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে চিরকাল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম হ্যাটট্রিকটি আসে তাঁর হাত ধরেই। সেদিন তিনি ছিলেন মাত্র ১৯ বছর বয়সী!
পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সেই টেস্ট সিরিজ ছিল বাংলাদেশ দলের জন্য তখন পর্যন্ত অন্যতম রোমাঞ্চকর সিরিজ। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে প্রথম ইনিংসে ৬৬ রানের লিড নিয়ে ভালো অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং ধসের কারণে পাকিস্তান সহজেই ম্যাচটা জিতে নেয়।
পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সেই টেস্ট সিরিজ ছিল বাংলাদেশ দলের জন্য তখন পর্যন্ত অন্যতম রোমাঞ্চকর সিরিজ। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে প্রথম ইনিংসে ৬৬ রানের লিড নিয়ে ভালো অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং ধসের কারণে পাকিস্তান সহজেই ম্যাচটা জিতে নেয়।
তবে বাংলাদেশ ম্যাচটা হারলেও পেয়ে যায় প্রথম হ্যাটট্রিক করা বোলারের দেখা। ১৯ বছর বয়সী সেই তরুণ ছিলেন অলক কাপালি। প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে খুব একটা কিছু করতে পারেননি কাপালি। তবে লেগব্রেক বোলিংটা মাঝেমধ্যেই করতেন। অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজন হঠাৎই তাঁকে বল তুলে দেন হাতে। বলেছিলেন, "একটা ব্রেকথ্রু দরকার। ভালো জায়গায় বল কর।"
সেসময় ব্যাট করছিলেন শাব্বির আহমেদ ও সেট হয়ে যাওয়া মোহাম্মদ ইউসুফ। অনেকক্ষণ ধরে বল করছিলেন মোহাম্মদ রফিক। পরিবর্তনে আনা হয় কাপালিকে।
সেসময় ব্যাট করছিলেন শাব্বির আহমেদ ও সেট হয়ে যাওয়া মোহাম্মদ ইউসুফ। অনেকক্ষণ ধরে বল করছিলেন মোহাম্মদ রফিক। পরিবর্তনে আনা হয় কাপালিকে।
কাপালির পরিকল্পনা ছিল ইউসুফকে সিঙ্গেল দিয়ে সরিয়ে রেখে শাব্বিরকে আক্রমণ করা। ঠিক সেটাই করলেন। আর তাতে সফলও হলেন তিনি। নিজের করা দ্বিতীয় ওভারের পঞ্চম ও ষষ্ঠ বলে শাব্বির আহমেদ ও দানিশ কানেরিয়াকে ফিরিয়ে দেন কাপালি। তাতে পরের ওভারের প্রথম বলেই হ্যাটট্রিকের সুযোগ আসে কাপালির সামনে। আর এ সুযোগ লুফে নিতে একটুও ভুল করেননি কাপালি।
পরের ওভারে স্ট্রাইকে ছিলেন নতুন ব্যাটার উমর গুল। পাকিস্তানি এই পেসারকে সাজঘরের পথ দেখিয়ে নিজের এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম হ্যাটট্রিকের মালিক হতে কাপালির লক্ষ্য ছিল স্টাম্প বরাবর সোজা বল করা। সেটাই করলেন, আর তাতেই সৃষ্টি হল ইতিহাস!
তিন বলে তিন উইকেট, আর তাতেই তিনি হয়ে যান বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম হ্যাটট্রিক শিকারি বোলার। সেই সময় তিনিই ছিলেন টেস্টে সবচেয়ে কম বয়সী হ্যাটট্রিকধারী বোলার। পরবর্তীতে পাকিস্তানের নাসিম শাহ ১৬ বছর বয়সে বাংলাদেশকে বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে সেই রেকর্ড ভাঙেন।
আলোক কাপালির পুরো টেস্ট ক্যারিয়ারে উইকেট সংখ্যা মাত্র ছয়টি। অথচ এর মধ্যেই রয়েছে এক হ্যাটট্রিক! টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে কম উইকেটধারী হ্যাটট্রিককারী ক্রিকেটারের রেকর্ড।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের হয়ে তিন সংস্করণেই খেলেছেন অলক কাপালি। ১৭ টেস্টের ক্যারিয়ারে ১৭.৬০ গড়ে করেছেন ৫৮৪ রান। ২টি অর্ধশতক। ৬৯ ওয়ানডেতে ১৯.৬০ গড়ে করেছেন ১২৩৫ রান। ৫টি অর্ধশতক। বল হাতে তিন সংস্করণ মিলিয়ে অলক উইকেট নিয়েছেন ৩২টি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অলক কাপালি সর্বশেষ ম্যাচ খেলেছেন ২০১১ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে।
আলোক কাপালির পুরো টেস্ট ক্যারিয়ারে উইকেট সংখ্যা মাত্র ছয়টি। অথচ এর মধ্যেই রয়েছে এক হ্যাটট্রিক! টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে কম উইকেটধারী হ্যাটট্রিককারী ক্রিকেটারের রেকর্ড।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের হয়ে তিন সংস্করণেই খেলেছেন অলক কাপালি। ১৭ টেস্টের ক্যারিয়ারে ১৭.৬০ গড়ে করেছেন ৫৮৪ রান। ২টি অর্ধশতক। ৬৯ ওয়ানডেতে ১৯.৬০ গড়ে করেছেন ১২৩৫ রান। ৫টি অর্ধশতক। বল হাতে তিন সংস্করণ মিলিয়ে অলক উইকেট নিয়েছেন ৩২টি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অলক কাপালি সর্বশেষ ম্যাচ খেলেছেন ২০১১ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে।
